ভালো জিপিএ/সিজিপিএ পাওয়ার জন্য ৫ টি টিপস/সিক্রেট

সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভালো মার্কস, ভালো জিপিএ/সিজিপিএ এর উপর নির্ভর করেই ভালো ছাত্র খারাপ ছাত্র নির্বাচন/নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। যেমনটা চাকুরীর ক্ষেত্রে বেতন :P। যদিওবা ব্যতিক্রম আছে কিন্তু ব্যতিক্রম উদাহরণ হিসেবে বলা উচিৎ না। ছাত্রাবস্থায় ভালো রেজাল্ট করা যেমন সহজ একটা বিষয় তেমনি কঠিন হচ্ছে খারাও রেজাল্ট করা। সত্যি বলতে কি খারাপ রেজাল্ট করাটাই কঠিন ব্যাপার, ভালো রেজাল্ট করা অনেক সহজ যদিওবা আমরা সেটার উলটা কথা বলি 😉

আচ্ছা বেশি কথা না বাড়িয়ে চলুন পড়ে নেওয়া যাক সেই পাঁচটি গোপন রহস্যজনক তথ্য!

১) ক্লাসে উপস্থিত থাকাঃ ভালো রেজাল্ট বা ভালো জিপিএ/সিজিপিএ অর্জনের জন্য ক্লাসে উপস্থিত থাকাটাও একটা গুরুত্তপুর্ন বিষয় যা আপনাকে পরীক্ষার সময় অনেক সহায়তা করে থাকবে। ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারলে শিক্ষকগণের সাথে ভালো ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়, বন্ধুদের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে উপস্থিত মার্ক এটলিস্ট ৯০% পাওয়ার সুযোগ থাকে।

২) ক্লাসে ভালো পার্ফর্মেন্স দেখানোঃ  ক্লাসে ভালো পার্ফর্মেন্স দেখানোর জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ক্লাসে নিয়োমিত উপস্থিত থাকতে হবে। শিক্ষক যে বিষয়ে যেই যেই নোট, ই-বুকসহ অন্যান্য যেসব তথ্য প্রদান করে থাকেন সেগুলা মনোযোগ দিয়ে সংগ্রহ করে নিতে হবে এবংবাসায় গিয়ে সেগুলা নিয়ে অবশ্যই স্টাডি করতে হবে। যদি কোন টপিকস বুঝতে না পারেন বা বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে প্রথমেই আগে গুগল করে দেখুন বিষয়টা কিভাবে আয়ত্ত করা যায়। তারপর অন্য ক্লাসমেটদেরকে জিজ্ঞাসা করুন। তারপরেও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া না গেলে অবশ্য অবশ্যই শিক্ষকের কাছে চলে যেতে হবে এবং তাঁর সাহায্য কামনা করতে হবে। এছাড়াও কুইজ টেস্ট, ক্লাস টেস্ট এর জন্য নিজেকে প্রতিদিনই প্রস্তুত রাখতে হবে। কারণ এখানেও কিন্তু মার্কিং সিস্টেম আছে।

৩) এসাইনমেন্ট ভালোভাবে তৈরি করতে হবেঃ শিক্ষক যখন কোন এসাইনমেন্ট এসাইন করে দেন তখন সেই টপিকস এর উপর তিনি ক্লাসে পুর্নাঙ্গো/কিছুটা হলেও ধারণা দিয়ে থাকেন তারপর তিনি এসাইনমেন্ট তৈরি করে ক্লাসে নিয়ে যেতে বলেন। তাই যখন কোন এসাইনমেন্ট এসাইন করা হয় তখন যদি কোন টপিকস বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যই শিক্ষকের থেকে তা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে নিতে হবে অন্যথ্যায় নিজেকে সমদ্র পৃষ্ঠে আবিষ্কার করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। তাই এসাইনমেন্ট তৈরি করতে বসার আগে টপিকস এর উপর খুবই পরিষ্কার একটা ধারণা রাখতেই হবে। যদি ধারণা পরিষ্কার থাকে তাহলে এসাইনমেন্ট তৈরি করার সময় অবশ্যই তা কেয়ারফুলি তৈরি করে শিক্ষককে যথাযথ সময়ের মধ্যেই প্রদান করতে হবে অন্যথায় এসাইনমেন্টের উপর যে মার্ক থাকে তা থেকে কিঞ্চিৎ হলেও বঞ্চিত হবেন এতে কোন সন্দেহ নাই। তাই এসাইনমেন্ট তৈরি করুন ভালোভাবে এবং ভালোমানের।

৪) প্রেজেন্টেশনে ভালো করতে হবেঃ কম বেশি প্রতিটা সাব্জেটের উপরই সিলেবাস শেষে শিক্ষক আশা করে থাকেন এতোদিন তিনি যেসব টপিকস নিয়ে কথা বলেছেন, বার বার বোঝানোর জন্য সর্বাত্তক চেষ্টা করেছেন সেগুলা ছাত্ররা ঠিক কতোটুকু নিতে পেরেছেন বা বুঝতে পেরেছেন তারই একটা সাধারণ পরীক্ষা মাত্র। আপাতত দৃষ্টিতে মনে হতেই পারে যে প্রেজেন্টেশনে আবার কি এমন হাটি ঘোড়া আছে? কিন্তু ভাইয়া একটু থামেন প্রেজেন্টেশন খুবই সিম্পল একটা বিষয় হলেও ইহার মাধ্যমে আপনাকে অনেকখানিই পরীক্ষা করে নেওয়া সম্ভব। যেমন আপনি ক্লাসে বসে ঝিমাইছেন? নাকি পিছনে বন্ধুদের সাথে খোশ গল্পে মেতে ছিলেন? সেটাও বুঝা যায় কিন্তু 😛 আর সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে এখানেও কিন্তু মার্কিং থাকে। অর্থাৎ প্রেজেন্টেশনের উপর যে মার্কস থাকে তা কিন্তু আপনি ১০০% অর্জন করে নিতে পারেন যদি আপনি খুবই সিন্সিয়ার হয়ে প্রেজেন্টেশন প্রদান করতে পারেন। আর প্রেজেন্টেশন দেওয়ার চেয়ে তৈরি করাটাই বেশি গুরুত্তপুর্ন। যদিওবা প্রেজেন্টেশন তৈরি করা থেকে প্রদান পর্যন্ত পুরাটাই গুরুত্তপুর্ন।

৫) পরীক্ষায় ভালোভাবে লিখতে হবেঃ পরীক্ষা সামনে চলে আসলেই অনেক মামুর বেটারা অনেকভাবেই ৩ নাম্বার(অজুহাত) হাত দেখানোকে একটা বাড়তি ভাব বলেই মনে করে থাকেন। যেমনঃ আমি মুখস্ত করতে পারিনা! আমি পড়ারসময় পাইনা! পড়তে বসলেই ঘুম চলে আসে! পড়ার চেয়ে অমুক করতেই বেশি ভালো লাগে ইত্যাদি ইত্যাদি।

আচ্ছা মামুর বেটারা এবার একটু মুল কথায় আসি। আরে ভাই আপনাকে চোখ বন্ধ করে মুখস্ত করতে বলেছেন কে? একটু চোখ খোলা রেখে পড়লেইতো কাজে দেয়। আর তাছাড়া মুখস্থ করে পরীক্ষা দেওয়া আর নকল করে পরীক্ষা দেওয়া সমান কথা। তাই মুখস্থ করে পরীক্ষা দেওয়ার চেয়ে টপিকসসমূহ বুঝার চেষ্টা করুন! বাস্তবিক জীবনের সাথে রিলেট করে পড়ুন! তাহলে দেখবেন মুখস্থবিদের চেয়েও আপনি অনেক ভালোভাবে লিখতে পারবেন এবং ভালো মার্কসও অর্জন করতে পারবেন।

এবার আসি আসল কথায়। মামুর বেটারা ভালো রেজাল্ট করার জন্য উপরের টিপসসমূহতো কাজে লাগাতে হবেই পাশাপাশি মিড-টার্ম এবং ফাইনাল পরীক্ষাটাও ভালো করে দিতে হবে তাহলে সবকিছু যোগ করে শেষে দেখেবেন ওয়াও একটা রেজাল্ট হয়েছে।

পরিশেষে আমি আশা রাখই আপনার সামনের সেমিস্টারের রেজাল্ট আগের চেয়ে অনেক ইম্প্রুভ করবে 🙂